
একাধিক গুরুতর মামলার আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দেশে আগমনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তার দেশে প্রত্যাবর্তনের খবর প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
বিশেষ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং এসএম কিবরিয়া হত্যা মামলা-সহ একাধিক আলোচিত মামলার প্রেক্ষাপটে তার দেশে ফেরা নতুন করে আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থান করার পর তার এই আগমন ঘিরে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করছেন, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের একটি অংশ এটিকে আইনের শাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক নাঈমুল হাসান সিকদার তার এক প্রতিবেদনে বলেন, “আইন যেখানে সকলের জন্য সমান হওয়ার কথা, সেখানে এর ব্যত্যয় ঘটলে তা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদালতের নিকট আত্মসমর্পণ ছাড়া দেশে এসে অবাধে চলাফেরা করা আইনের শাসনের পরিপন্থী হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রে সুশাসন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তারা মনে করেন, “আইন সবার জন্য সমান, এই নীতির কার্যকর বাস্তবায়নই পারে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে।
এদিকে সাধারণ মানুষের মাঝেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে মেনে নিচ্ছেন, আবার কেউ আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
সার্বিকভাবে, তারেক রহমান-এর দেশে আগমন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, বিচার ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।